ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ [ জেনে নিন বিস্তারিত ]

ডিজিটাল মার্কেটিং এ ফেসবুক কিরকম ভূমিকা রাখে এর গুরুত্ব কিরকম সেটা আমরা জানতে পেরেছি আমাদের আগের আর্টিকেল থেকে। আগের আর্টিকেলে বিভিন্ন ধরণের মার্কেটং নিয়ে আলোচনা  করা না হলেও এই আর্টিকেল এগুলো বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব ।

আমি আগের আর্টিকেলে বলেছি যে ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে একটি বিশাল সেক্টর। এখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ আছে যেগুলো আলাদা আলাদাভাবে করলেও অথবা শিখতে গেলে প্রচুর সময় প্রয়োজন।  আপনি চাইলে এক বা একাধিক সেক্টরে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারেন।

তো আপনি যদি এই সোশ্যাল সাইট গুলোকে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনি অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। বড় বড় কোম্পানি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহার কিংবা বড় রাজনৈতিক দলের প্রচার প্রচারণার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো আছে সেগুলো নিয়েই আলোচনা করব ।তবে কথা না বাড়িয়ে আমার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি-

 ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো হল

  • ফেসবুক মার্কেটিং
  •  টুইটার মার্কেটিং
  • লিংকড ইন মার্কেটিং
  • রেডিট মার্কেটিং
  • পিন্টারেস্ট মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন 
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং এন্ড মার্কেটিং 
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ভাইরাল মার্কেটিং
  • মিডিয়া এডভার্টাইজিং 
  • এসএমএস মার্কেটিং

উপরের আলোচিত টপিকগুলো ছাড়াও আরো অনেক ধরনের মার্কেটিং সিস্টেম চালু আছে তবে এগুলোই হচ্ছে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। চলুন তাহলে অল্প অল্প করে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

প্রথমে আসি  ফেসবুক মার্কেটিং  নিয়ে-

ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক হচ্ছে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি সোশ্যাল মিডিয়া ।প্রতিদিন এখানে অসংখ্য মানুষ নানা কারণে নানা ধরনের জিনিস অথবা তথ্য শেয়ার করে থাকে। এছাড়াও যেকোন ধরনের নিউজ আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে খুব সহজেই পেয়ে য…

ফেসবুক মার্কেটিং এর মধ্য ফেসবুক পেজ ফেসবুক গ্রুপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ফেসবুক ফেসবুক পেজ দিয়ে আপনি বেশি সুবিধা করতে পারবেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। এছাড়াও ফেসবুক পেজে পেইড এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ড অথবা আপনার যে সেবাটি আছে সেটির জন্য টার্গেটেড কাস্টমারদের সহজেই পেয়ে যেতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে ব্যবহারকারী থাকার জন্য শুধু এ প্লাটফর্ম থেকেই আপনি প্রচুর পরিমাণে আপনার কাস্টমারদের খুঁজে পেতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

টুইটার মার্কেটিং

এবার চলে আসি পরবর্তী স্টেপে ।এই পর্যায়ে আমরা জানবো টুইটার মার্কেটিং সম্পর্কে টুইটার হচ্ছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে মানুষজন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে টুইটের মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন ফেসবুকে আমরা যেটাকে বলে স্ট্যাটাস । টুইটারে টুইট আকারে ছোট হয় কারণ এখানে একটা লিমিটেশন দেয়া থাকে যেটা ফেসবুকে থাকে না। যাই হোক আপনি টুইটারের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন ।

টুইটারে তাদের নিজস্ব অ্যানালিটিক্স রয়েছে সেটি ব্যবহার করে আপনি দেখতে পারবেন আপনার প্রতিদিন যে টুইটগুলো করেন সেগুলো কি পরিমান মানুষের কাছে পৌঁছেছে । এতে আপনার এঙ্গেজমেন্ট কেমন ইম্প্রেশন কেমন সেগুলো আপনি দেখতে পারবেন। 

এছাড়াও টুইট করার সময় আপনি উপযুক্ত হ্যাশট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন । যাতে আরো বেশি মানুষের কাছে আপনার টুইটে পৌঁছে যায়। আবার আপনার মার্কেটিং এর টপিক যদি ট্রেন্ডিং কোন বিষয় হয় সে ক্ষেত্রে আপনি ট্রেন্ডিং যেগুলো হ্যাশট্যাগ আছে সেগুলো ব্যাবহার করতে পারবেন।

লিংকডইন মার্কেটিং

এবার আসি তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের এ পর্যায়ের আলোচনার বিষয় হচ্ছে লিংকড ইন মারকেটিং। লিংকডইন হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।  এটাকে সবাই ফেসবুকের মত ব্যবহার না করে প্রফেশনালি ব্যবহার করে থাকেন। কারণ একটাই এখানে যারা আছেন তারা সবাই তাদের প্রফেশনাল বিষয়গুলো এখানে শেয়ার করে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির যদি ভ্যাকেন্সি থাকে সে ক্ষেত্রে লিঙ্কডইনের যে প্রোফাইল গুলো আছে আছে সে গুলোকে তারা প্রাধান্য দিয়ে থা… শুধু তাই নয় লিংকডইন ব্যবহার করেও আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করতে পারবেন টুইটারের মতো ।এখানে আপনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে পারবেন ।এছাড়াও আপনার আর্টিকেল, ভিডিও আপনি শেয়ার করতে পারবেন।

রেডিট মার্কেটিং

আমাদের চতুর্থ পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হচ্ছে  রেডিট মার্কেটিং। রেডিট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে খুবই সচেতন থাকতে হবে কারণ সেখানে একটু এদিক ওদিক হলেই আপনার আইডি ব্যান হতে পারে। আপনি যদি ঠিকঠাক ভাবে এই মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে শুধু রেডিট থেকে প্রচুর পরিমাণে সেলস নিয়ে আসতে পারবেন ।

তবে, এখানে আপভোট ডাউনভোট এই বিষয়গুলোর ব্যাপার স্যাপার আছে। অর্থাৎ ধরুন আপনি একটি পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করলেন মনে আপনার মতামত দিলেন । সেটি যদি ঐ পোষ্টের সাথে প্রাসঙ্গিক হয় এবং কেউ যদি সেটিকে লাইক করে থাকেন তাহলে আপনি আপভোট পাবেন, ডাউনভোট এর ক্ষেত্রেও এর উল্টো বিষয়টি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি আপনার প্রকাশিত মন্তব্যটিকে ডিসলাইক করে তখন আপনি একটি ডাউনভোট পাবেন। 

পিন্টারেস্ট মার্কেটিং

আমাদের পঞ্চম পর্যায় আলোচনার বিষয় হচ্ছে পিন্টারেস্ট মার্কেটিং। পিন্টারেস্ট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে পিন করতে হবে। পিন মানে হচ্ছে ধরুন আপনি একটি পোস্ট করলেন সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর পিন্টারেস্ট এর ক্ষেত্রে পিন।  এই যে আপনি পিন করবেন আপনার প্রতিটি পিনে আপনি নিজে কোন প্লাটফর্মে লিংক দিতে পারবেন। আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হন তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর লিংক দিতে পারেন, আপনি যদি কোন কোর্স বিক্রি করে থাকেন তাহলে সেই কোর্স বিক্রির লিংক দিতে পারেন। আগে ওদের রুলস ভালো করে পড়বেন তারপর সেই অনুযায়ী কাজ করবেন তারপর ধীরে ধীরে লিংক শেয়ার করা শুরু করবেন, তবে মনে রাখবেন লিংক শেয়ার করতে যেয়ে স্পামিং যেন না হয়। 

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

আমাদের নেক্সট স্টেপের আলোচনার বিষয় হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংকে সংক্ষেপে এসইএম ( SEM ) বলা হয়ে থাকে। এর মানে হচ্ছে যেসকল সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে সেগুলোতে আপনার মার্কেটিং করার প্রক্রিয়া। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

সার্চ  ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন

এবার আসি সার্চ  ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের ব্যপারে। সংক্ষেপে সার্চ ইঞ্জিনকে অপ্টিমাইজেশনকে সংক্ষেপে এসইও বলা হয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসতে চান তাহলে এসইও হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। এসইওতে আবার রয়েছে বেশ প্রকারভেদ। যেমন – অনপেজ এসইও, অফপেজ এসইও ইত্যাদি। যারা ভালোভাবে তাদের ওয়েবসাইটের এসইও করতে পারেন তারা খুব সহজেই গুগলের প্রথম পেজে তাদের ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসতে পারেন। এর ফলে কি হয় জানেন? প্রথম পেজে থাকা ওয়েবসাইটগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর পেয়ে থাকে। যত বেশি ভিজিটর তত বেশি আয়।

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল হচ্ছে বর্তমানে দ্রুত যোগাযোগের বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আপনি শুধু যোগাযোগই নয়, নানা ধরণের ডকুমেন্টও ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের অফিসিয়াল কাজের জন্য ইমেইলের বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। বেশিরভাগ অফিসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে ইমেইলের ব্যবহার আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ইমেইলের মাধ্যমেও আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন। আর ইমেইলের মাধ্যমে করা মার্কেটিং সিস্টেমই বর্তমান দুনিয়ায় ইমেইল মার্কেটিং নামে পরিচিত। 

কন্টেন্ট রাইটিং এবং মার্কেটিং

একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ হচ্ছে তার কন্টেন্ট। কন্টেন্ট কি? একটি ওয়েবসাইটে যেসকল লিখাগুলো আপনি দেখতে পান সেগুলোই হচ্ছে সেই ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট। ওয়েবসাইটের ক্যাটাগরি অনুযায়ি কন্টেন্ট আলাদা আলাদা হতে পারে। কন্টেন্ট যদি না থাকে তাহলে সেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর ভিজিট করবে না এটাই স্বাভাবিক। কন্টেন্ট যত বেশি ইউজফুল হবে ভিজিটরও তত বেশি আকৃষ্ট হবে। আর এই কন্টেন্ট দিয়েই আপনাকে ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হবে কন্টেন্ট মার্কেটিং। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর জন্য আপনার কন্টেন্টকে বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করতে পারেন। এছাড়াও ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য কণ্টেন্ট মার্কেটিং এর পাশাপাশি এসইও করতে হবে। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং-

প্যাসিভ ইনকামের মধ্যে অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেকটা কমিশনের মতই। এখানে আপনি অন্য কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে তার বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে যাবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি প্রতি মাসে প্রচুর পরিমাণ আয় করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে কাঠখড় পোড়াতে হবে। আদতে যতটা সহজ মনে করছেন ততটা সহজ নয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আমি অন্য একটি আর্টিকেলে আলোচনা করব। 

ভাইরাল মার্কেটিং 

ভাইরাল শব্দটি শুনেই বুঝতে পারছেন এর কাজ কি। ভাইরাল মার্কেটিং এমন একটি মার্কেটিং সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনি অল্প সময়ে আপনার সেবা/দ্রব্যকে প্রচুর পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। ভাইরাল মার্কেটিং বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে বেশ ভালোই প্রভাব ফেলছে। 

মিডিয়া এডভার্টাইজিং-

টেলিভিশন থেকে শুরু করে অনলাইন, অফলাইন পত্রিকায় আপনার কোম্পানি কিংবা ব্র্যান্ডের যে প্রচার প্রচারণা চালাবেন সেগুলোই মিডিয়া এডভার্টাইজিং। টেলিভিশনের ক্ষেত্রে কেউ একনাগারে ৪/৫ দিন একই চ্যানেলে আবার কেউ টানা এক সপ্তাহ কোনো নির্দিষ্ট কিংবা একাধিক চ্যানেলে তাদের প্রচার প্রচারণা চালায়। আবার রেডিওতেও অনেকেই মার্কেটিং করে থাকেন। 

এসএমএস মার্কেটিং-

এই মার্কেটিং সিস্টেম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে টেলিকম কোম্পানিগুলো। একটু খেয়াল যদি করে থাকেন তাহলে দেখবেন, আপনার ফোনে প্রতিদিন নানা ধরণের এসএমএস আসে সিম কোম্পানিগুলো থেকে। এর মধ্যে অনেক ধরণের অফারের কথা উল্লেখ থাকে। বর্তমানে শুধু টেলিকম কোম্পানিগুলোই নয়, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি থেকে শুরু করে ই-কমার্স ব্যবসায়েও এসএমএস মার্কেটিং বেশ প্রচলিত। 

বাহ, অনেক কিছুই তো বলে ফেললাম। কিন্তু এগুলোর বাইরেও তো আরো অনেক মার্কেটিং সিস্টেম চালু আছে, সেগুলোর কি হবে? সেগুলো না হয় অন্য আরেকটি আর্টিকেলে বলবো?? আজ আপাতত এতোটুকুই থাক। দেখা হচ্ছে পরের আর্টিকেলে। টা টা 

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *