ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ [ দেখে নিন বিস্তারিত ]

আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে যে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ । আজকে এটি নিয়ে আলোচনা করার আগে আপনাদের জানতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং জিনিসটিকে। আমি আমার আগের আর্টিকেল গুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং কি সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি । যারা আগের আর্টিকেলটি পড়ে তারা এই লিংক [ ডিজিটাল মার্কেটিং কি ] থেকে আগের আর্টিকেলটি পড়ে আসতে পারেন । তারপরও এখানে সংক্ষেপে এই মার্কেটিং কি বলছি ।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার এর মাধ্যমে অথবা ডিজিটাল মিডিয়াগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি যে মার্কেটিং করবেন সেটি হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং । এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করা উচিত অথবা আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং কেন প্রয়োজন সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি আমার অন্য একটি আর্টিকেলে। যারা মিস করেছেন তারা নিচের লিঙ্ক থেকে ক্লিক করে একের আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

তো চলে আসি আমাদের মুল আলোচনায়। আমরা আজকে জানবো ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো। আজকের এই আর্টিকেলে আমি এর প্রকারভেদ গুলো কে সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব । তো চলুন জেনে নেয়া যাক ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ আসলে কি কি।

  • এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • টুইটার মার্কেটিং
  • পিন্টারেস্ট মার্কেটিং
  • রেডিট মার্কেটিং
  • ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং
  • লিংকডইন মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং এন্ড মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং 
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং 
  • ইমেইল মার্কেটিং 

মোটামুটি এগুলাই প্রচলিত বর্তমানে। চলুন এগুলো সম্পর্কে টুকিটাকি কিছু জেনে নেয়া যাক। 

ফেসবুক মার্কেটিং

প্রথমে আসে  ফেসবুক মার্কেটিং  নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মধ্য অন্যতম একটি ধাপ হচ্ছে ফেসবুকে মার্কেটিং। ফেসবুক হচ্ছে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি সোশ্যাল মিডিয়া ।প্রতিদিন এখানে অসংখ্য মানুষ নানা কারণে নানা ধরনের জিনিস অথবা তথ্য শেয়ার করে থাকে। এছাড়াও যেকোন ধরনের নিউজ আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে খুব সহজেই পেয়ে যাই। বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সকল ধরণের প্রতিষ্টানেরই ফেসবুক পেজ আছে । তো এই ফেসবুক প্রজ দিয়ে কিংবা গ্রুপ দিয়ে তারা কি করে ভাউ? বলছি শুনেন-

ফেসবুক মার্কেটিং এর মধ্য ফেসবুক পেজ এবং ফেসবুক গ্রুপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ফেসবুক পেজ দিয়ে আপনি বেশি সুবিধা করতে পারবেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। এছাড়াও ফেসবুক পেজে পেইড এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ড অথবা আপনার যে সেবাটি আছে সেটির জন্য টার্গেটেড কাস্টমারদের সহজেই পেয়ে যেতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে ব্যবহারকারী থাকার জন্য শুধু এ প্লাটফর্ম থেকেই আপনি প্রচুর পরিমাণে আপনার কাস্টমারদের খুঁজে পেতে পারবেন। কাজেই কাস্টমার মিস করতে না চাইলে ফেসবুক মার্কেটিং করাটাই আপনার জন্য বেস্ট হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ
ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

টুইটার মার্কেটিং

এবার আসি টুইটার মার্কেটিং নিয়ে।  টুইটার মার্কেটিং হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর আওতাভুক্ত । মানে হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর যে ধাপগুলো আছে তার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে টুইটার মার্কেটিং । তো আমরা কিন্তু কমবেশি সবাই জানি এ টুইটার  জিনিসটা কি।  ফেসবুকে যেটিকে আমরা স্ট্যাটাস বলে থাকি টুইটারে সেটিকে টুইট বলা হয়।  তবে টুইটার ক্ষেত্রে কিছু লিমিটেশন থাকে । টুইটার ব্যবহার করে আপনি যে মার্কেটিং কাজ সম্পাদন করবেন সেটি হচ্ছে মূলত টুইটার মার্কেটিং। 

টুইটারে আপনি বিভিন্ন ধরনের হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করতে পারবেন।  যখন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন তখন টুইটার অটোমেটিকভাবে দেখাবে যে, কোন হ্যাশট্যাগ গুলো ট্রেন্ডিং আছে । এর পাশাপাশি আপনি আপনার মার্কেটিং রিলেটেড হ্যাশ ট্যাগ যেগুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে টুইটারের নিজস্ব অ্যানালিটিক্স রয়েছে । এই অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে আপনি আপনার যে কার্যক্রম গুলো আছে সেগুলো তে কি পরিমাণ এনগেজমেন্ট এসেছে সেগুলো দেখতে পারেন।

লিংকডইন মার্কেটিং

এবার আলোচনা করবো লিংকডইন মার্কেটিং নিয়ে।  লিংকডইন আমাদের সবারই অতি পরিচিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম । এটিকে সবাই ফেসবুকের মত ব্যবহার না করে প্রফেশনালি ব্যবহার করে থাকে । কারণ এখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির জব অফার খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।  এছাড়াও আপনার যদি প্রফেশনাল কোন কিছুর প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে লিংকডইনে আপনি একটু ঢু মেরে আসতে পারেন । তবে শুধু প্রফেশনালিজম নয় এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও আপনি মার্কেটিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন । 

ফেসবুক টুইটারের মতো এখানেও আপনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি পোস্ট করতে পারবেন, আর্টিকেল শেয়ার করতে পারবেন ।আমাদের অন্য একটি আর্টিকেল লিঙ্কডইন মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব।

রেডিট মার্কেটিং

আবার চলে আসি রেডিট মার্কেটিং এর ব্যাপারে।  অন্যান্য সকল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যেমন কাজই কারুন না কেনো  এই মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে । কারণ রেডিট প্লাটফর্মের নিয়ম-নীতি খুবই কড়া।  এখানে আপনি একটু এদিক-সেদিক করলেই আপনার রেডিট আইডি হারাবেন।  তবে এখানে অর্থাৎ রেডিটে যদি নিয়ম মেনে আপনি ঠিকঠাক ভাবে মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে শুধু রেডিট থেকেই আপনি প্রচুর পরিমাণ সেলস তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার যদি ওয়েবসাইট থাকে সেখানেও রেডিট থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর নিয়ে নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে অন্য আর্টিকেলে আলোচনা করবো। 

রেডিটে আপনি যদি একটু খেয়াল করে থাকেন তাহলে দেখবেন যে এখানে ডাউনভোট আপভোট এই দুটি ব্যাপার রয়েছে।  ধরুন আপনি একটি পোস্ট করলেন সেটা যদি কারো ভালো না লাগে তাহলে সে ডাউনভোট দেবে । আর যাদের ভালো লাগবে তারা আপভোট দিবে । এই ডাউনভোট আপভোট সেটা আপনার পোস্টে হতে পারে অথবা আপনার কমেন্টে হতে পারে ।  তবে পোস্ট করুন আর কমেন্ট করুন যাই করুন না কেন খেয়াল রাখতে হবে সেটি যেন আর্টিকেল রিলেটেড হয়।

পিন্টারেস্ট মার্কেটিং

এছাড়াও আরেকটি কাজ আপনি করতে পারেন পিন্টারেস্টে । ধরুন আপনি বিভিন্ন কোর্স করিয়ে  থাকেন। এটি হতে পারে যেকোনো কিছু । আপনার প্রতিটি পিনে আপনি আপনার কোর্স এর লিংক গুলো দিতে পারেন।  তবে এক্ষেত্রে একটি জিনিস সবসময় খেয়াল রাখবেন । লিংক শেয়ারের ক্ষেত্রে যেন স্পামিং না হয় এজন্য ভালোভাবে তাদের রুলস গুলো পড়ে নেবেন ।

ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং

তো এবার কথা বলব ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং নিয়ে। বর্তমানে ভিডিও মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যেখানেই যান না কেন দেখবেন টেক্সট মার্কেটিং এর চাইতে ভিডিও মার্কেটিং বেশি ব্যবহৃত হয়। পুরো দুনিয়ায় ভিডিও মার্কেটিং এর  সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে ইউটিউব । আপনি যদি ইউটিউব সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা রাখেন তাহলে আপনি  এটি নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন যে ইউটিউব দিয়েও ভালোভাবেই ভিডিও মার্কেটিং করা যায়।

কনটেন্ট রাইটিং এবং মার্কেটিং

কনটেন্ট রাইটিং এবং মার্কেটিং এটি হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ।  আপনার ওয়েবসাইটে যদি কোন কনটেন্ট না থাকে তাহলে সেই ওয়েবসাইটে কোন ভিজিটর আসবেনা । আর যদি কেউ এসেও থাকে পরবর্তী সময়ে সে আপনার ওয়েবসাইটে ঢোকার কথাও চিন্তা করবেনা । সেজন্য প্রতিটা ওয়েবসাইটে কোয়ালিটি কনটেন্ট থাকা বাধ্যতামূলক । এই কনটেন্টগুলো কে যে প্রক্রিয়াইয় আপনি মার্কেটিং করবেন সেটি হচ্ছে কনটেন্ট মার্কেটিং । কনটেন্ট  মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব পরবর্তী আর্টিকেলে। সেখানে অনেক বিষয় তুলে ধরব কনটেন্ট রাইটিংয়ের ।

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল আমরা প্রায়শই ব্যবহার করে থাকি।  আমাদের নানা কাজে প্রতিদিন অসংখ্য অসংখ্য ইমেইল আমাদের পাঠাতে হয় । আবার আমাদের কাছে অসংখ্য ইমেইল চলে আসে । যোগাযোগের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সহজ পন্থা সেটি হচ্ছে ইমেইল । ইমেইল ব্যবহার করেও আপনি মার্কেটিং করতে পারবেন।  আপনার যদি একটি ইমেইল থাকে তাহলে কাইন্ডলি ইমেইল গুলো একটু ভালোভাবে যদি চেক করেন তাহলে ইমেইল মার্কেটিং এর কিছু উদাহরণ আপনি পেয়ে যাবেন।

  আপনার কাছে আসা  মেইলগুলোর অনেকগুলোতে দেখবেন বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যাক্তি থেকে আপনাকে মেইল দিয়েছে । এই ইমেইলের ভেতর দিয়ে তারা তাদের কোম্পানির কিংবা সাইটের কিংবা নিজের মার্কেটিং করছে । তো যাই হোক ইমেইল মার্কেটিং এর আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করব অন্য একটি আর্টিকেলে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংকে প্যাসিভ ইনকাম এর অন্যতম একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তবে এটি আসলে অনেকটা কমিশনের মত । অ্যাফিলিয়েটমার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে অন্য কোম্পানির কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিতে হবে এবং এর বিপরীতে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা কমিশন পাবেন । অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আপনি প্রতিমাসে কিন্তু প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারবেন । তবে বলাটা যত সহজ করাটা কিন্তু ততটা সহজ নয় । এজন্য আপনাকে প্রচুর প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট থাকবে আমার পরবর্তী আর্টিকেলে।

মোবাইল মার্কেটিং

মোবাইল মার্কেটিং এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আমাদের দেশের টেলিকম কোম্পানি গুলো। প্রতিদিনই আমাদের ফোনে অসংখ্য অসংখ্য এসএমএস আসে টেলি কোম্পানি থেকে। এই এসএমএস এর মাধ্যমে মূলত তারা তাদের মার্কেটিং করে থাকে । আপনিও চাইলে মোবাইল মার্কেটিং ব্যবহার করে আপনার মার্কেটিং প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

তো এই যে এত কথা বললাম এগুলো প্রত্যেকটিরই নিজেদের বিশাল একটা সেক্টর রয়েছে। আপনি যেকোনো একটা প্ল্যাটফর্মেও যদি নিজেকে এক্সপার্ট করে তুলতে পারেন তাহলে তো আর কথাই নেই। আর যদি চান মাল্টিপল সেক্টরে নিজেকে ডেভেলপ করবেন তাহলে একটু সময় দিতে হবে আপনাকে। তাড়াহুড়ো করা চলবে না কোনোভাবেই। আজকে আপাতত এতোটুকুই থাকুক। দেখা হচ্ছে পরবর্তী আর্টিকেলে।

One thought on “ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ [ দেখে নিন বিস্তারিত ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *