ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা কি?

ফেসবুক কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং এর নাম আমরা শুনেছি । আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা কি? ফেসবুক আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি প্ল্যাটফর্ম । আমাদের প্রায় সবারই ফেসবুকে একটি করে অ্যাকাউন্ট আছে ।

অনেকের আবার দুটো তিনটে অ্যাকাউন্ট আছে ।বিষয়টা একাউন্ট নিয়ে নয়, বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং । কোম্পানি থেকে শুরু করে মাঝারি কিংবা বৃহদাকার প্রতিষ্ঠানও নানা কাজে  ডিজিটাল মার্কেটিং ফর্মুলা তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করে আসছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং মূলত হচ্ছে অনলাইনে যে প্ল্যাটফর্ম গুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করে আপনার ব্র্যান্ড কিংবা ব্যবসার প্রসার ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া । এক্ষেত্রে আপনি একটি কিংবা একাধিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন।  মোট কথা হচ্ছে অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে আপনার সার্ভিসকে পৌঁছে দেয়ার সিস্টেমটাই হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং । যদি এটিকে পরিমাপ করতে চান তাহলে আমি বলবো একচুয়ালি এটি অনেক বড় একটি পরিসর। এখানে শেখার কোনো শেষ নেই। 

আপনি যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য কিংবা আপনার ব্যবসার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং না করে অ্যানালগ সিস্টেম ফলো করে থাকেন তাহলে আপনি অনেক পিছিয়ে থাকবেন । আপনি একটু যদি চোখ-কান খোলা রাখেন তাহলে দেখবেন আপনার আশেপাশে অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং করে আসছে এবং তারা আপনার চাইতে অনেক এগিয়ে যাবে যদি আপনি এখনও আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োগ করে না থাকেন। 

তো এই  যে বারবার ডিজিটাল মার্কেটিং কি বিষয়টা আমি ফোকাস করতেছি সেটার কিন্তু অনেক প্রকারভেদ রয়েছে । নিচের আর্টিকেল থেকে আপনারা এর প্রকারভেদ গুলো জেনে আসতে পারেন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ গুলো কি কি?

আপনি যদি আর্টিকেলগুলো পড়ে থাকেন তাহলে হয়তো জেনে থাকবেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর যতগুলো শাখা আছে তার মধ্যে অন্যতম এবং বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং।  আপনি যদি শুধু ফেসবুকে ব্যবহার করেন তারপরও আপনার নির্ধারিত সেবাটিকে প্রচুর পরিমাণ গ্রাহকের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে দিতে পারবেন। কিভাবে?? 

আগের আর্টিকেল গুলোতে আমি বলেছি, এখানে আবারো বলছি যে ফেসবুকে অসংখ্য অসংখ্য অ্যাক্টিভ ইউজার রয়েছে । যত ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী হচ্ছে ফেসবুকে এবং এর পরিমান প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ফেসবুক ব্যবহার করে আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটারের মাধ্যমে  অনেক সুবিধা নিতে পারবেন আপনার প্রতিষ্ঠান কিংবা সার্ভিসের জন্য।  তাহলে সেই সুবিধা গুলো কিভাবে আপনি ফেসবুক থেকে পাবেন আর আপনার ব্যবসাকে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

আমার দৃষ্টিতে আপনি ফেসবুক থেকে মোটামুটি তিন ভাবে সুবিধা নিতে পারবেন । প্রথমে আপনি একটি ফেসবুক পেজ খুলবেন । পেজ খোলার পর আপনার কাজ হবে ফলোয়ার বৃদ্ধি করা এবং টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে বের করা।  এখানে একটি বিষয় আপনার পেজের যদি ফলোয়ার প্রচুর পরিমাণে হয় এবং আপনি যদি ঠিকঠাক ভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে বের করতে পারেন তাহলে আপনার যে ব্র্যান্ড আছে বা আপনার যে প্রতিষ্ঠানের  যে পণ্যটি আছে সেটিকে আপনি খুব সহজেই মার্কেটিং করতে পারবেন।  আপনার সেলসও বৃদ্ধি পাবে। 

আচ্ছা আমি যুক্তির খাতিরে ধরে নিচ্ছে আপনি একজন ট্রেইনার।  হতে পারে এ ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অথবা হতে পারে ওয়েব ডিজাইন কিংবা ওয়েব ডেভলপিং সংক্রান্ত অথবা হতে পারে প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত যেকোনো কিছু নিয়ে আপনি কোর্স তৈরি করে থাকেন। এবং আপনি চাচ্ছেন বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অর্থাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করতে।  সেক্ষেত্রে আপনি ফেসবুক পেজ কিংবা ফেসবুক গ্রুপ খুলে সেগুলো প্রচার-প্রচারণা করতে পারেন।

আপনার যদি ফেসবুক গ্রুপ থাকে তাহলে আপনি কিভাবে কাজ করবেন? ফেসবুক গ্রুপ থাকলেই হবে না সেখানে দেখতে হবে কি পরিমাণ একটিভ মেম্বার রয়েছে । আপনার গ্রুপে হাজার হাজার মেম্বার কিংবা লক্ষ লক্ষ মেম্বার থাকতেই পারে কিন্তু সেখানে যদি একটিভ মেম্বার না থাকে তাহলে কাজের কাজ কোন কিছুই হবে না । আর যত বেশি একটিভ মেম্বার থাকবে তত বেশি আপনি সেলস করতে পারবেন । কারণ সেই একটাই কথা যত বেশি মানুষ যত বেশি মানুষের কাছে আপনার সার্ভিস পৌঁছাবে । 

আরেকটা জিনিস আপনি করতে পারেন। আপনি আপনার গ্রুপের মেম্বারদের আকৃষ্ট করার জন্য গিভএওয়ে  দিতে পারেন । কথা হচ্ছে এই গিভএওয়ে এর মানে কি। গিভএওয়ে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কনটেস্ট আয়োজন করে সেখান থেকে বিজয়ীদেরকে পুরস্কৃত করা।  আপনি আপনার গ্রুপে যেকোনো ধরনের কনটেস্ট আয়োজন করতে পারেন। সেটা যেকোনো ধরনের কনটেস্ট হতে পারে,  সেটা হতে পারে গ্রুপে মেম্বার এড করা অথবা অন্য কিছু।

তো কথা  হচ্ছে আপনি পুরস্কার হিসেবে কি দিয়ে থাকবেন?? আমি এখানে কিছু আইডিয়া দিতে চাচ্ছি। আমার আইডিয়াই যে আপনাকে নিতে হবে এমন কোন কথা নেই আপনি আপনার পছন্দ মত যে কোন পুরস্কার দিয়ে দিতে পারেন। 

আপনি ডোমেইন কিংবা হোস্টিং পুরস্কার হিসেবে দিতে পারেন। আপনি যদি টপ-লেভেল ডোমেইন দিতে চান সেটাও আপনার উপর নির্ভর করবে। আবার হোস্টিং এর ক্ষেত্রে 1gb প্যাকেজ কিংবা দুই জিবির অথবা 5gb দিয়ে দিতে পারেন । তো এটা শুধু যে ফেসবুক গ্রুপে দিতে পারবেন এমন কোন কথা নেই ফেসবুক পেজেও আপনি কনটেস্টের আয়োজন করতে পারবেন। এবার চলে আসি অন্য একটি বিষয় নিয়ে । 

ফেসবুক পেজ কিংবা গ্রুপ বাদ দিয়েও আপনি আপনার প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যেতে পারবেন ।এক্ষেত্রে আপনাকে যেটি করতে হবে, আপনার ফেসবুক আইডি দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে । তবে আপনার ফেসবুক আইডিতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রেন্ডস এবং ফলোয়ার থাকতে হবে। এবং ভালো একটি নেটওয়ার্ক আপনাকে তৈরি করতে হবে।  আপনার নেটওয়ার্ক যত স্ট্রং  থাকবে তত বেশি মানুষের কাছে আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন । আর যত যত বেশি মানুষের কাছে আপনি পৌঁছাতে পারবেন মনে রাখবেন ততো বেশি পরিমাণে মানুষকে আপনি আপনার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারবেন। তাই আমি সবসময় একটা কথা বলি ফেসবুকে অযথা সময় নষ্ট না করে ফেসবুকে যদি কাজে লাগাতে পারেন তাহলে অনেক কিছু এখান থেকে করা যেতে পারে। 

তবে যে তিনটি সিস্টেম এর কথা বললাম আপনি চাইলে তিনটি সিস্টেমে কাজ করতে পারেন অথবা যেকোনো একটি অথবা দুটি নিয়ে কাজ করতে পারেন এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর। তবে ফেসবুক পেজ নিয়ে এখন কিছু কথা বলব।  ফেসবুক পেজ নিয়ে যদি আপনি এগিয়ে যেতে চান তাহলে আপনাকে পেইড মার্কেটিং চালিয়ে যেতে হবে।

অর্থাৎ আপনাকে টাকা পয়সা খরচ করতে হবে । পেইড এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে আপনি বিশ্বের যেকোন প্রান্তে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন । শুধু আপনার নিকটবর্তী এলাকা নয় যেকোনো জায়গায় আপনি যেকোন সময় এই বিজ্ঞাপনটি চালিয়ে যেতে পারবেন। পেইড এডভার্টাইজিং এক্ষেত্রে আপনি সিলেক্ট করে দিতে পারবেন যে কত জন মানুষের কাছে এটি পৌঁছাবে, তাদের বয়স কি রকম হবে ইত্যাদি। এসব কিছুই আপনি সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। এখান থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনি খুঁজে বের করবেন আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য টার্গেট কাস্টমার কারা । তারপর সেখান থেকে আবার রিটার্গেটেড মার্কেটিং করবেন এবং সেখান থেকে যারা বেরিয়ে আসবে তারাই আপনার প্রকৃত কাস্টমার। তাদের  কাছে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গুলোকে অথবা আপনার সার্ভিসকে বিক্রি করে আপনার সেলস নিয়ে আসতে পারবেন।

এইযে করোনাকালীন সময়টা যাচ্ছে আপনি হয়তো খেয়াল করলে দেখতে পারবেন আপনার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে পেজ খুলে ব্যবসা করছে । এক্ষেত্রে তারা তাদের পেজের পোস্ট গুলো বুস্ট করতেছেন অথবা অন্য যে কোন মাধ্যমে তারা কিন্তু ঠিকই তাদের নিয়ে আসতেছে । তাহলে আপনি কেন বসে আছেন?

ফেসবুক ব্যবহার করে আপনি যদি ভালোভাবে মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে ফেসবুক পেজ থেকে অথবা গ্রুপ থেকে আপনি ভালোভাবে আয় করতে পারবেন। কাজেই  শুধু লাইক এবং কমেন্টের জন্য ফেসবুক ব্যবহার না করে ভালো কিছু করার জন্য যদি ব্যবহার করেন তাহলে আমি মনে করি আপনাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আজ আপাতত এতটুকুই । দেখা হচ্ছে পরবর্তী আর্টিকেলে। 

One thought on “ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *